West Bengal Jago Prokolpo

West Bengal Jago Prokolpo: সভ্যতার একটা যুগে নারীরা সব দিক থেকে অনেকটা পিছিয়ে ছিল। একটা সময়ে শুধু পুরুষরা বাইরে কাজ করত আর মেয়েরা ঘরের কাজ করত। চার দেয়ালের মাঝেই ছিল তাদের গোটা দুনিয়া। মেয়েরা শিক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা, ব্যবসা, প্রযুক্তি সবকিছু থেকে বঞ্চিত হত। কিন্তু এখন সময় অনেক বদলে গেছে। মেয়েরা সম অধিকার পাওয়ার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে।

ঘর চালানোর সাথে সাথে শিক্ষা, গবেষণা থেকে শুরু করে দেশ চালানোর মতো কাজও করছে মেয়েরা। এক কথায় বলতে গেলে এখন নারিরা প্রায় সব কিছুতেই পুরুষদের সাথে সমান তালে তাল মিলিয়ে চলছে।আসলে ইচ্ছাশক্তি প্রবল হলে কোনো কিছুই আপনাকে দমাতে পারবে না।প্রত্যেক নারিকেই আর্থিকভাবে সাবলম্বী অথবা আত্মনির্ভরশীল হওয়া প্রয়োজন (West Bengal Jago Prokolpo)।

PM Health Scheme: কেন্দ্রের বড় ঘোষণা! এবার যে কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে সরকারী সাহায্যে

আমাদের সমাজের অধিকাংশ নারী তাদের খরচ এবং প্রয়োজন মেটানোর জন্য স্বামী বা পিতামাতার উপর নির্ভর করতে হয়।অধিকাংশ মেয়েরা বিয়ের আগে বাবার উপর নির্ভর করে চলে। আর বিয়ের পরে আর্থিকভাবে স্বামীর উপর পুরোপুরি নির্ভর করে।একজন স্বামী অবশ্যই তার স্ত্রীর দায়িত্ব নিবে, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার।

WB Ration Big Update : অত্যন্ত খারাপ খবর! বন্ধ হল বিনামূল্যে রেশন, এখন চাল,ডাল ও গম পাবে কীভাবে?

কিন্তু অনেক সময় তারা মানসিক এবং শারীরিকভাবে অত্যাচারিত হলেও তখন তাদের কিছু করার থাকে না। কারণ আর্থিকভাবে তাদের স্বামীর উপরই ভরসা করতে হচ্ছে।কিন্তু তারা যদি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়,তাহলে তারা তাদের নিজেদের ইচ্ছা পূরণ করতে পারবে। সেই সাথে পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারবে। এতে তাদের মনোবলও বাড়ে।তাই প্রতিটা মেয়ের আত্মনির্ভরশীল হওয়া প্রয়োজন।

আর্থিকভাবে সাবলম্বী হলে তারা নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই ব্যাপারে কারও উপর নির্ভর করতে হয় না। এতে একজন মানুষের আত্মসম্মান বৃদ্ধি হয় এবং জীবনে যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সে প্রস্তুত থাকে। সমাজে নিজের একটা পরিচয় হবে,এখন এটাই সবাই চায়। নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এই রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীও বিশেষ জোর দিয়েছেন।নারীদের উন্নয়নের জন্য তিনি নানা প্রকল্প চালু করেছেন। যাতে নারীরা সাবলম্বী হতে পারে।

বহু প্রতীক্ষিত মামলার রায়দান হল! মানিক ভট্টাচার্যের আবেদন ও ২৭৩ জনের বাতিল চাকরি ফেরানোর আর্জি খারিজ

নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নারীদের জন্য ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু করেছেন। যাতে তারা কিছুটা হলেও সাবলম্বী হতে পারে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের নারীদের স্বাবলম্বী গড়ে তোলার জন্য তথা তাদের উন্নতির সাপেক্ষে অনেকগুলি জাগো প্রকল্প (West Bengal Jago Prokolpo) এর মতো অনেকগুলো প্রকল্প নিয়ে এসেছে।

এই প্রকল্পগুলি নেওয়ার জন্য রাজ্যে কয়েক মাস পর পরই অনুষ্ঠিত ‘দুয়ারে সরকার ক্যাম্প’ হয়। সেখানে গিয়ে রাজ্যের মহিলারা আবেদন করছেন এবং প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন। এই সুবিশাল ভারতবর্ষের একটি অন্যতম রাজ্য হল পশ্চিমবঙ্গ। আয়তন অনুসারে জনসংখ্যার ঘনত্ব পশ্চিমবঙ্গে অনেক বেশি। এরফলে রাজ্যে চাকরীর চাহিদাও অনেক বেশি। ফলে স্বাভাবিকভাবে রাজ্যের বেকার সমস্যাও বিশাল।

রাজ্যকে উন্নত করার জন্য পুরুষ সমাজের পাশাপাশি নারী সমাজকেও সমানতালে এগিয়ে যেতে হবে। অর্থাৎ তাদের স্বাবলম্বী হতে হবে।তাই মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নারীদের জন্য এতো প্রকল্প চালু করেছেন। নারী স্বাধীনতা ও নারীর ক্ষমতায়ন তার প্রকল্পগুলির মুল লক্ষ্য। আমাদের দেশে এখনও এমন অনেক নারী আছে যারা সঠিক মোটিভেশনের অভাব ও সুযোগ না পাওয়ার কারণে আত্মনির্ভরশীল হতে পারছে না।

তাই নারী ক্ষমতায়নে এই সব প্রকল্পগুলি হল রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্ক প্রসূত প্রকল্প। এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহায্য পেয়ে রাজ্যের নারীরা এখন স্বয়ং সম্পূর্ণ হচ্ছে। এখন ঘরে বসেই মহিলারা নানান ধরনের কুটির শিল্পের কাজ করছে। সংসারের আয়ে এখন তাদেরও হাত রয়েছে। ধীরে ধীরে রাজ্যের উন্নয়ন হচ্ছে। এই জাগো প্রকল্পে কারা আবেদন করতে পারবেন, টাকা পাবেন কীভাবে প্রভৃতি প্রকল্প সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হল।বিস্তারিত দেখে নিন-

জাগো প্রকল্প কী?

জাগো প্রকল্প হল পশ্চিমবঙ্গ স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও আত্ম কর্মসংস্থান দপ্তরের অন্তর্গত একটি প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিস্তরের স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে বছরে ৫,০০০ টাকা করে দেওয়া হয়। এর মূল উদ্দ্যেশ্য হল আরও বেশী স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে তোলা এবং বর্তমান স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোর কাজে আরও বেশি করে উৎসাহ প্রদান করা।

তাই এই উদ্দেশ্যে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়ে থাকে। বর্তমানে রাজ্যের প্রায় ১০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যায় পৌছাতে পারলে আদতে রাজ্যের মহিলারাই উন্নত আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।

জাগো প্রকল্প কারা আবেদন করতে পারবেন?

১) রাজ্যের যে কোনো একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য হতে হবে।

২) যে সকল স্বনির্ভর গোষ্ঠী ক্যাশ ক্রেডিট লিমিট গ্রহণ করেছে বা শর্তসাপেক্ষ লোন নিয়ে থাকতে হবে।

৩) স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বয়স ১ বছর হতে হবে।

৪) গোষ্ঠীটির অ্যাকাউন্ট ৬ মাসের পুরানো হতে হবে।

৫) অ্যাকাউন্টে নূন্যতম ৫,০০০ টাকা ব্যালেন্স থাকতে হবে।

জাগো প্রকল্পের জন্য আবেদন করবেন কীভাবে?

এই প্রকল্পে অনলাইন বা অফলাইন কোনোভাবে আবেদনের দরকার নেই। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলো সরাসরি জাগো প্রকল্পের টাকা পেয়ে যাবেন। এখনও পর্যন্ত দেশের মোট প্রায় ৯ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

By Probir Biswas

আমি প্রবীর বিশ্বাস Webscte.in এ সকল প্রকারের স্কলারশিপ সহ বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য, সাথে টেক নিউজ, বিনোদন, ব্যবসা-বানিজ্যের ওপরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিয়ে থাকি, ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.