SSC Sting Operation Exclusive

SSC Sting Operation Exclusive : সাম্প্রতিক কালে পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই অভিযোগ বড়সড় দুর্নীতির। হাই কোর্টেও নিত্যদিন এ নিয়ে চলছে মামলা মোকদ্দমা। স্কুল শিক্ষা নিয়ে দেশ তথা রাজ্য নানা সমস্যার সম্মুখীন দীর্ঘদিন ধরেই। ইদানীং এ রাজ্যে এক দীর্ঘকালীন এসএসসি দুর্নীতির সামান্য অংশ খোলসা হয়েছে। স্কুল শিক্ষা নিয়ে আপাতভাবে চর্চা বেড়েই চলেছে।

এসএসসি দুর্নীতি কাণ্ডে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে ইডি ৫০ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে। চাকরি দেওয়ার নামে এই টাকা তোলা হয়েছিল বলেই অভিযোগ। যদিও ইডির জেরায় প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায় মুখ খোলেননি।

রাজ্যে SSC দুর্নীতি কাণ্ডে এবার বিস্ফোরক তথ্য সামনে এল। স্টিং অপারেশনে এই তথ্য সামনে এসেছে। SSC দুর্নীতি মামলায় বেশ কয়েকবার CBI তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। তারপর ৫টি FIR করা হয়। তার ভিত্তিতে প্রায় এক হাজার জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গরমিল ছিল বলে অভিযোগ। পশ্চিমবঙ্গে কুখ্যাত SSC দুর্নীতিতে টাকার বিনিয়মে চাকরি মামলায় একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়ে আসছে।

কলকাতা থেকে পায়ে হেটে ৭৫ দিনে লাদাখের সর্বোচ্চ সড়ক উমলিং লা পৌঁছলেন বাঙালি যুবক

SSC নিয়োগে চমকে দেওয়ার মতো যে তথ্যগুলো উঠে এসেছে?

SSC নিয়োগে আদালত বরখাস্তের নির্দেশ দিলেও কিছুজন এমনও আছেন যাঁরা এখনও চাকরি করছেন। এমনই একজন সফিকুল হক। উত্তর চব্বিশ পরগনার গোপালপুরের বাসিন্দা তিনি। ২০২০ সালে গোপালপুর পপুলার অ্যাকাডেমি স্কুলে ইতিহাসের শিক্ষক হিসেবে চাকরি পান। মুসলিম সম্প্রদায়ের পিছিয়ে পড়া জনজাতির OBC কোটায় সফিকুলের ১২১ র‍্যাঙ্ক ছিল RTI অনুসারে।

তাঁর নাম তালিকায় ওয়েটিংয়ে ছিল। তা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন তাঁর নাম সুপারিশ করে। এক মাসের মধ্যেই তিনি নিয়োগপত্র পেয়ে যান। সফিকুল আজও সেখানে চাকরি করছেন। সফিকুল হক কীভাবে চাকরি পেলেন জিগেস করলে সফিকুলের অকপট জানায় SSC কমিশন বিবেচনা করে বুঝেছে তাই চাকরি দিয়েছে(SSC Sting Operation Exclusive)।

Chutia Police station: থানার নাম ‘Chutia’ যা মুখে আনা যায় না, নাম বদলানোর জন্য প্রশাসনকে চিঠি বাসিন্দাদের

ভালো Rank করেও চাকরি পাননি যোগ্য প্রার্থী?

এমনও চাকরি প্রার্থী আছে যে ভালো Rank করেও চাকরি পাননি। এমন তথ্যও জানা গেছে Sting Calin এ। প্রার্থী তালিকার ১২১ নম্বরে নাম থাকা সত্ত্বেও চাকরি পেয়েছেন সফিকুল হক। অথচ ইলিয়াস ৯৫ RANK করেও চাকরি পাননি। তিনি এখনও বেকার। ইলিয়াস বিশ্বাস বলেন যাঁর যোগ্যতা আমার চেয়ে কম ছিল। তিনি চাকরি পেয়েছেন,তবে আমি এখনও পাইনি। লড়াই করে যাচ্ছি,আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা অন্যায়(SSC Sting Operation Exclusive )।

কম ব্যাঙ্ক পেয়েও চাকরি পেয়ে হাইকোর্টের অর্ডারে চাকরি গেছে?

শেখ ইনসান আলি ২০২০ সালে কম ব্যাঙ্ক হয়েও চাকরি পেয়েছিলেন। তবে কলকাতা হাইকোর্টের অর্ডারে এ বছর তার চাকরি গেছে। এসএসসি দুর্নীতির অভিযোগে যে ১ হাজার জনের চাকরি গেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ ইনসান আলি৷ আলির কথায় আমি বোকামি করেছিলাম। আমাকে বলির পাঁঠা করা হল। বিক্ষোভ আন্দোলন যাতে বন্ধ হয়, তার জন্যই আমায় চাকরি দেওয়া হয়েছিল। অথচ এখন আমার চাকরি চলে গেছে।

Indian Railway Jobs: ভারতীয় রেলে ৯,০০০ পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে? বিস্তারিত জেনে নিন

শিক্ষকদের সিন্ডিকেট?

হুগলি জেলার সুশান্ত ভট্টাচার্য উত্তরপাড়া অমরেন্দ্র বিদ্যাপীঠের প্রাইমারি বিভাগের হেড স্যার। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাইমারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। তাঁর দাবি শিক্ষক সংগঠনগুলি সিন্ডিকেটের মতো কাজ করছে। নিম্নমেধার প্রার্থী স্রেফ তেল মেরে চাকরি টিকিয়ে রাখছে। সুশান্ত ভট্টাচার্য বলেছেন তাঁর-ই স্কুলে সুমনা নিয়োগি ও চন্দ্রিমা দেব এর চাকরি চলে গিয়েছে।

দুজনেই ২০১৭ সালে স্কুলে চাকরির জন্য ১৫ লক্ষ পর্যন্ত ঘুষ দেয়। কিন্তু আদালতের নির্দেশে দুজনেরই এখন চাকরি নেই। টাকার বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দিতে অবাধে চলছে সিন্ডিকেট রাজ- এই দাবি করেছেন সুশান্ত ভট্টাচার্য। তাঁর মতে শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ভূমিকা সন্দেহজনক। যদিও তিনি ওই শিক্ষক সমিতিরই একজন। শিক্ষক সমিতি একটি সিন্ডিকেটের মতো কাজ করে বলে দাবি করেছেন সুশান্ত।

By Probir Biswas

আমি প্রবীর বিশ্বাস Webscte.in এ সকল প্রকারের স্কলারশিপ সহ বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য, সাথে টেক নিউজ, বিনোদন, ব্যবসা-বানিজ্যের ওপরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিয়ে থাকি, ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.