বয়স ১৮ থেকে ৬০ হলেই, বছরে পেয়ে যাবেন ২ লক্ষ টাকা, বাংলার সমাজ সাথী প্রকল্প -এর সম্পর্কে জানুন | Samaj Sathi Scheme

Samaj Sathi Scheme: জন সাধারনের ভোটেই গঠিত হয় সরকার। তাই ক্ষমতায় আসার পর সাধারণের ভাল মন্দ দেখ ভালের দায়িত্ব সরকারেরই কাঁধেই থাকে। এই রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর জন সাধারনের সুবিধার জন্য একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছেন। তিনি এই প্রকল্পগুলিকে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে চলছেন

নাবালক অবস্থায় প্রতিটি মেয়ের বিয়ে রুখতে এবং তাঁকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনদানের অঙ্গীকার হিসেবে ‘কন্যাশ্রী প্রকল্প’ চালু করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এছাড়াও যুবশ্রী,সবুজ সাথি,স্বাস্থ্য সাথি প্রভৃতি প্রকল্প চালু করেছেন। রাজ্যের মহিলাদের সাবলম্বি করার জন্য লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প চালু করেছেন। এছাড়াও নানা জনকল্যাণমুলক প্রকল্প চালু করেছেন।

Advertisement

রাজ্যের মহিলাদের অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে একাধিক স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করেছে সরকার। স্বনির্ভর গোষ্ঠী হল রাজ্য সরকার দ্বারা স্বীকৃত ১০-২০ জন দ্বারা গঠিত একটি গোষ্ঠী। যারা প্রত্যেকে স্বল্প সঞ্চয়ের মাধ্যমে ব্যঙ্ক থেকে ঋণের সুবিধা নিতে পারেন। আর এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে ‘সমাজ সাথী’ প্রকল্প চালু করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।

স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কোনও সদস্যের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ২ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের হিসেব অনুযায়ী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রায় ১ কোটি সদস্যকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।

Advertisement

বিচারপতির নির্দেশে বিপদ বাড়ল বেআইনিভাবে নিয়োগ প্রাপ্তদের, ৭ নভেম্বরের মধ্যে চাকরি ছাড়তে হবে! | Primary tet 2014 case

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের নিরাপত্তার কথা ভেবে একটি দুর্ঘটনা বীমা চালু করা হয়েছে ।প্রতিটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য বছরে সর্বাধিক ২ লক্ষ টাকার বীমা পরিষেবা পেয়ে যাবে। এই বীমার জন্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের কোনো কিস্তি দিতে হবে না। এই প্রকল্পটি রূপায়ণ করছে স্বনির্ভর ও স্বনিযুক্তি দপ্তরের অধীনে থাকা স্বরোজগার নিগম।

সমাজ সাথী প্রকল্প কী?

পশ্চিমবঙ্গের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের চিকিৎসা সংক্রান্ত সহায়তার উদ্দেশ্যে এই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের কোনো স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য কোনো রকম দুর্ঘটনার কবলে পড়লে তার চিকিৎসার জন্য সমাজ সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে সর্বাধিক ২ লক্ষ টাকা অবধি সাহায্য পেতে পারেন। চিকিৎসা বীমার টাকা স্মার্ট কার্ড থেকে কেটে নেওয়া হবে। এই চিকিৎসা বীমার জন্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের কোনো প্রিমিয়াম দিতে হয় না। সমাজ সাথী প্রকল্পের বীমা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেলফ হেল্প গ্রুপগুলোর সদস্যদের দেওয়া হয়।

বিরাট সুখবর! পুজোর পরেই উচ্চপ্রাথমিকের ইন্টারভিউ, জানাল স্কুল সার্ভিস কমিশন | Upper Primary TET interview date

সমাজ সাথী প্রকল্পের অর্থ সাহায্য কারা পাবেন?

(১) পশ্চিমবঙ্গের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য বা সদস্যারা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন।

(২) উক্ত ব্যক্তি কোনো দুর্ঘটনার কবলে পড়লে চিকিৎসার খরচ বাবদ এই প্রকল্প থেকে সাহায্য পাবেন।

(৩) উক্ত ব্যক্তির বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।

সমাজ সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়?

(১) বিনামূল্যে ২ লক্ষ টাকা অবধি চিকিৎসা বীমা পাবেন।

(২) কোনো প্রকার দুর্ঘটনায় মৃত্যু অথবা সম্পূর্ণ বা আংশিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই বীমার সুবিধা পাবেন।

(৩) দুর্ঘটনার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হলে সর্বাধিক ৬০,০০০ টাকা অবধি বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন।

(৪) দুর্ঘটনার জন্য ডে কেয়ার বিভাগের চিকিৎসায় সর্বাধিক ৫,০০০ টাকা অবধি বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।

(৫) হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় দৈনিক ১০০ টাকা (সর্বাধিক ৩০ দিন পর্যন্ত) করে সাহায্য করা হবে।

(৬) দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে অন্তেষ্টিক্রিয়ার জন্য আরও অতিরিক্ত ২,৫০০ টাকা(২ লক্ষ টাকার উপরে) অবধি সাহায্য পাবেন।

(৭) দুর্ঘটনায় কোনো সদস্যের মৃত্যু হলে তার সন্তানদের পড়াশোনার জন্য আরও ২৫,০০০ টাকা অবধি অর্থ সাহায্য পাবেন।

মাধ্যমিক পাশে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ব্লকে ও গ্রামে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন ও ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে নিজের এলাকায় স্বাস্থ্য দপ্তরের নিয়োগ

কী ধরণের দুর্ঘটনা বা আঘাতের ক্ষেত্রে সমাজ সাথীর সুবিধা মিলবে?

(১)যে কোনও ধরণের ছোট বড় দুর্ঘটনা, শারীরিক আঘাত, অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হলে কয়েক দিন বা কয়েক ঘণ্টার চিকিৎসাও বিমার মাধ্যমে করানো যাবে। যেমন গাড়ি দুর্ঘটনা, বাড়িতে কোনও বড় দুর্ঘটনা, সাপে কাটা, আগুনে পোড়া সব ক্ষেত্রেই এই বিমা কার্যকরী।

কোন ক্ষেত্রে সমাজ সাথী প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না?

(১) উক্ত ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে আঘাত করে থাকলে।

(২) মদ্যপান ও নেশাজনিত কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়লে।

(৩) কোনো অপরাধমূলক কাজকর্মের সাথে জড়িত দুর্ঘটনার শিকার হলে।

(৪) যুদ্ধে আঘাতপ্রাপ্ত হলে।

(৫) পাহাড়ে চড়া, বেলুন দুর্ঘটনা, বিমান চালানোর সময় দুর্ঘটনার মুখে পড়লে।

(৬) বাইক রেসিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়লে।

সমাজ সাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন কীভাবে?

পশ্চিমবঙ্গের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কোনো সদস্য দুর্ঘটনায় আহত হলে তিনি এই প্রকল্পের নথিভুক্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেবেন।হাসপাতালগুলোর মধ্যে কোনো একটিতে গেলে তার স্মার্ট কার্ডটি তাহলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার খরচ বাবদ টাকা স্মার্ট কার্ড থেকে কেটে নেবেন। যদি চিকিৎসার খরচ স্মার্ট কার্ডে বরাদ্দ খরচের তুলনায় বেশী হয় তাহলে বাকি টাকা উপভোক্তাকে দিতে হবে।

স্মার্ট কার্ড নথিভুক্তকরণ এর কতদিন পর থেকে বিমার পরিষেবা শুরু হবে?

স্মার্ট কার্ড নথিভুক্তকরণ এর পরবর্তী মাস থেকেই এই বীমা পরিষেবা শুরু হবে।

Written by Sunita Mallick

এইরকম আরও নানান গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

 Google News | | টেলিগ্রাম চ্যানেলে

Sunita Mallick

আমি সুনিতা মল্লিক Webscte.in এ সকল প্রকারের চাকরি ও শিক্ষার খুঁটিনাটি খবর সহ এই সাইটে সরকারি প্রকল্প, গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিয়ে থাকি, ধন্যবাদ।

Related Articles