Primary TET Case

Primary TET Case 2022: প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একের পর এক নজিরবিহীন দুর্নীতি সামনে আসছে।বুধবার প্রাথমিক শিক্ষক মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ মামলায় সিবিআই আধিকারিকদের নিয়ে এসআইটি গঠন করা হবে। বিচারপতির মন্তব্য তিনি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সিবিআই এবং পর্ষদের রিপোর্ট দেখেছেন। এতে একেবারে স্পষ্ট, যে বেছে বেছে নিয়োগ হয়েছে। নিয়োগে যে দুর্নীতি হয়েছে, তা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট।

কলকাতা হাইকোর্ট প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ তদন্তে সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নজরদারিতে এই মামলার তদন্ত হবে। কিন্তু রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ডিভিশন বেঞ্চের দুয়ারে কড়া নাড়া হয়েছে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে।আগামী সোমবার বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

ইতিমধ্যেই প্রাথমিকে ২৬৯ জনের চাকরি চলে গিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট ২৬৯ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ওই নির্দেশ দেন। এখনো সম্পূর্ণ লিস্ট সামনে না এলেও কিছু কিছু জেলার লিস্ট স্যোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে।যদিও জানা যাচ্ছে সেই সংখ্যা শুধুমাত্র হিমশৈলের চূড়ামাত্র।

২০১৪ সালে প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সেই মতো টেটের পরীক্ষা হয় ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর। ফলপ্রকাশ হয় ২০১৬-র সেপ্টেম্বরে। ওই বছরই প্রথম মেধাতালিকা প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। পরের বছর অর্থাৎ, ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর দ্বিতীয় বা অতিরিক্ত মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়। এই নিয়োগে প্রায় ২৩ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ৪২ হাজার প্রার্থীকে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগপত্র দেওয়া হয় (Primary TET Case)

এই ৪২ হাজারের মধ্যে কমপক্ষে ১৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে বিপুল টাকার বিনিময়ে।২০১৪ সালের অফলাইনে যে টেট পরীক্ষা হয়েছিল সেখানে ২৭৩ জন অতিরিক্ত ১ নাম্বার করে পেয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে প্রাথমিকে রিপোর্টে। প্রশ্নপত্র ভুল থাকায় বাড়তি নম্বরের জন্যে আবেদন করেছিলেন ২৭৮৭ জন। সেখানেই দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও সূত্রের দাবি আসলে বেলাইনে নিয়োগ প্রাপ্তের সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার।

বেআইনি ভাবে দ্বিতীয় প্যানেল প্রকাশ করার উদ্দেশ্য ছিল অতিরিক্ত প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়া। ওই দ্বিতীয় তালিকা থেকে মোট ২৬৯ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন বিচারপতি। এরপরেই আদালতের তত্বাবধানে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত।(Primary TET Case) সূত্রের দাবি, সিবিআই তদন্ত হলে ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে মাকড়সার জালের মতো এই দুর্নীতি ছড়িয়ে রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই নিয়োগ দুর্নীতিতে শুধুমাত্র পর্ষদের আধিকরিকরাই যুক্ত তা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী নেতারা৷ যা বলেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী উপেন বিশ্বাসও। অসমর্থিত সূত্রের দাবি, এই মামলায় আরও বিপুল সংখ্যক কর্মরত শিক্ষক চাকরি হারাতে পারে।

আগামী মাসের মধ্যেই যেকোনো দিন সাড়ে ১৭ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল করার হুঁশিয়ারি দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জাস্টিস অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এদিন বিচারালয়ের কক্ষে সরকারি আইনজীবীকে জানিয়ে দেন আনুমানিক ১৭০০০ জন বেআইনি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রাইমারি শিক্ষকের তালিকা ওনার হাতে রয়েছে। (Primary TET Case)সিবিআই তদন্ত চালাচ্ছে। সিবিআই SIT গঠন করার পর পরবর্তী রিপোর্ট জমা দিলেই নামের তালিকা গুলোকে পর্ষদে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

এই তালিকায় রাজ্যের বর্তমান ও প্রাক্তন নেতা-মন্ত্রীদের পরিবারের সদস্য দের নাম রয়েছে এমনও ইঙ্গিত দিয়েছেন বিচারপতি।এ বিষয়ে বিজেপি শিক্ষা সেলের কনভেনার তথা পিটিটিআই আন্দোলনের নেতা পিন্টু পাড়ুই জানিয়েছেন ১৭ হাজার সংখ্যাটাও নাকি তেমন কোন পার্সেন্টেজই নয়(Primary TET Case)

Leave a Reply

Your email address will not be published.