Green Crackers

Green Crackers: বাঙালির সব থেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজো।আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা।দুর্গাপুজোর পর একের পর উৎসবের মরশুম।দুর্গাপুজো বা নবরাত্রির পরই দরজায় কড়া নাড়বে আলোর উৎসব দীপাবলি বা দিওয়ালি আর বাঙালি হিন্দুদের কালীপুজো। দিওয়ালি হল আলোর উৎসবের পাশাপাশি অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির জয়।

দীপাবলি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব।”দীপাবলি” নামটির অর্থ “প্রদীপের সমষ্টি”। এই দিন হিন্দুরা ঘরে ঘরে ছোটো মাটির প্রদীপ জ্বালেন। এই প্রদীপ জ্বালানো অমঙ্গল বিতাড়নের প্রতীক। রামায়ন মতে রাবণকে বধ করে রাম, সীতা ও লক্ষ্মণ দীপাবলির দিন অযোধ্যায় ফেরেন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গোটা অযোধ্যা নগর প্রদীপ দিয়ে সাজানো হয়। আলোর উৎসবে মেতে উঠেছিলেন অযোধ্যাবাসী। আর সেকারণে এখনও দীপাবলিতে আলো দিয়ে সাজানো হয়। আর আলোর পাশাপাশি অমঙ্গল বিতাড়নের জন্য আতসবাজি পোড়ানো হয়। শুধু বাঙালিরাই নন, দীপাবলি কিন্তু বিভিন্ন জায়গার মানুষই পালন করে থাকেন। সেক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নামে তাঁদের কাছে পরিচিত দীপাবলি।এই উৎসবের একটা অঙ্গ যেমন ধর্মীয় রীতি মেনে পুজো অর্চনা, তেমনি বড় অঙ্গটি হল আতসবাজি পোড়ানো (Green Crackers)।

Make Money Online: বাড়িতে বসে অনলাইনে মোটা টাকা আয় করার সহজ কিছু উপায় জেনে নিন

এই উৎসব উপলক্ষ্যে লক্ষ লক্ষ ভারতীয়রা নতুন পোশাক, ডেকরেশান, প্রদীপ, ল্যাম্প সহ ইত্যাদি জিনিস কেনার জন্য ভিড় জমান বাজারে। ধর্মীয়, পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক উৎসবে আনন্দের মাত্রা সীমাহীন করতে বাজি ফুটানোর রেওয়াজ অনেক পুরনো। তবে উৎসবের এই বাড়তি আনন্দ আবার কখন কখনও বিপদ ডেকে আনতে পারে। আনন্দে আত্মহারা হয়ে বাজি ফুটানোর সময় অনেকে অসতর্কতাবশত আগুনে দগ্ধ হয়ে আহত হোন।

এছাড়াও আতসবাজি থেকে নির্গত ধোঁয়া সাংঘাতিক দূষণ সৃষ্টি করে। আতসবাজি যে সব উপকরণ দিয়ে তৈরি হয়, তা থেকে যে মারাত্মক বায়ু এবং শব্দদূষণ হয়, সে কথা পরিবেশবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন। দেওয়ালির সময়ে শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসের রোগাক্রান্তদের অবস্থা যে আরও কাহিল হয়, সেটাও বলছেন চিকিৎসকরা। তাই যে কোনও উৎসবের মরসুমেই বাজি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে।

Oasis Scholarship 2022: এবার থেকে ওয়েসিস স্কলারশিপে আবেদন করতে গেলে এই দশটি নিয়ম মানতে হবে

তাই দেশের সর্বোচ্চ আদালত আতসবাজি নিয়ে বেশ কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। হাই কোর্ট সব ধরনের বাজি বিক্রি এবং ফাটানো নিষিদ্ধ করেছে। তবে কলকাতা হাই কোর্টের একটি রায়ের পরে সুপ্রিম কোর্টের নতুন রায়ে গত বছর সেই বিতর্ক চরমে পৌঁছয়। হাই কোর্ট সব ধরনের বাজি বিক্রি এবং ফাটানো নিষিদ্ধ করলেও অপেক্ষাকৃত কম দূষণ ছড়ায়, এমন সবুজ বাজি বিক্রি এবং ফাটানোয় ছাড়পত্র দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

এর পরেই পরিবেশবিদদের বড় অংশই শীর্ষ আদালতের ওই রায়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, সবুজ বাজির তকমা সেঁটে নিষিদ্ধ বাজিই বিক্রি হবে না তো?তাঁদের যুক্তি ছিল, সবুজ বাজি কী? সে ব্যাপারে জনমানসে তেমন কোনও ধারণাই নেই। যাচাই করার কাজে পুলিশেরও সে ভাবে প্রশিক্ষণ নেই।

এই Ration Card থাকলে বিনামূল্যে 5 কেজি করে ডাল মিলবে, কবে থেকে শুরু হচ্ছে জানুন

পরিসংখ্যান দিয়ে তাঁরা জানান এ রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ‘পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভ অর্গানাইজেশন’ (পেসো)-এর ছাড়পত্র পাওয়া বাজি কারখানার সংখ্যা মাত্র তিনটি। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তালিকায় ৩৭টি বাজি কারখানা রয়েছে।আর বাকি সব কারখানা অবৈধ। স্বীকৃত কারখানাগুলির কোনওটিতেই সবুজ বাজি তৈরি হয় না। তাছাড়া এমন বাজি তৈরির জন্য নিরি-র ছাড়পত্র লাগে।

তাই এই বাধা এড়াতেই চলতি বছরে সবুজ বাজি তৈরির প্রশিক্ষণ নেওয়ার বিষয়ে বাজি ব্যবসায়ীরা আগাম তৎপর হন। বাজি ব্যবসায়ী এবং কলকাতা পুলিশের কর্তারা যৌথ ভাবে নিরি-র সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাই মাসে কলকাতায় আসেন নিরি-র প্রধান বিজ্ঞানী সাধনা রাইলু। নিরি-র সঙ্গে আরও পাঁচ বিজ্ঞানী ছিলেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাজি তৈরির জায়গাগুলিতে গিয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেন তাঁরা।

প্রশিক্ষণ শেষে নুঙ্গির ১০ জন ব্যবসায়ী নিজেদের তৈরি ফুলঝুরি, রংমশাল, চরকি ও তুবড়ি পরীক্ষার জন্য নিরি-র অফিসে পাঠান। বাজি ব্যবসায়ীদের সংগঠন সূত্রের খবর, নিরি-র দফতরে একাধিক পরীক্ষার পরে সবক’টি বাজিই পাশ করেছে। নিরি এর পরে ওই ব্যবসায়ীদের সবুজ বাজি তৈরির ছাড়পত্র দেয়। কিন্তু তার পরেই ফায়ার লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়।

বড় সুখবর! পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের পুজোর উপহার দিচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী ,জাগো প্রকল্পে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ

কারন পরীক্ষায় পাশ করেও এ রাজ্যের প্রথম সবুজ বাজি তৈরির কাজ আটকে গিয়েছে। উৎসবের মরসুম শুরু হওয়ার আগে এমনই অভিযোগ বাজি ব্যবসায়ীদের অনেকের। তাঁদের দাবি ‘ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (নিরি)-এর নাগপুরের দফতর থেকে গত জুলাইয়েই এ রাজ্যে সবুজ বাজি তৈরি করার পরিক্ষায় পাশ করে এসেছে।

নিরি-র দফতর থেকে এই রাজ্যের ১০ জন ব্যবসায়ীকে সবুজ বাজি তৈরির ছাড়পত্রও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরেও দমকলের ছাড়পত্র না মেলায় সব আটকে গিয়েছে। সূত্রের খবর দমকল দফতরে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে জানানো হয়েছে আগে পরিবেশ দফতরের ছাড়পত্র প্রয়োজন। দমকল দফতরের ছাড়পত্র না মিললে এই রাজ্যে সবুজ বাজি তৈরির কাজ শুরু করা যাবে না। সব মিলিয়ে কবে এই রাজ্যে সবুজ বাজি তৈরির কাজ শুরু হবে, তার উত্তর নেই।

এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ বাজি শিল্প উন্নয়ন সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর মান্না বলেন গত মঙ্গলবারই দমকলমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা দেখা করেছি। তিনি সাহায্যের আশ্বাস দিলেও তাঁর দফতর থেকে কাজ এগোচ্ছে না। ২০২১ সালের কোর্টের নির্দেশকে হাতিয়ার করে এখনও বলা হচ্ছে, সব রকমের বাজি তৈরি ও বিক্রি এ রাজ্যে নিষিদ্ধ। এর পরে পরিবেশ দফতর থেকে ছাড়পত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। (Green Crackers) শুক্রবারই বাজি ব্যবসায়ীরা পরিবেশ দফতরে যোগাযোগ করে তারা সবুজ বাজি তৈরির জন্য আবেদন জানান।

সবুজ বাজি তৈরির পরীক্ষায় পাশ করা এক ব্যবসায়ী বললেন “শুধু কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকাতেই প্রায় ৫০০ বাজি কারখানা রয়েছে। প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের অনেকেই এবার আইন মেনে সবুজ বাজি তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু অনুমতি না মিললে তারা ফের সেই বেআইনি বাজি তৈরির পথে হাঁটতে পারে। বাজির অবাধ বেআইনি কারবার শুরু হতে পারে।

By Probir Biswas

আমি প্রবীর বিশ্বাস Webscte.in এ সকল প্রকারের স্কলারশিপ সহ বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য, সাথে টেক নিউজ, বিনোদন, ব্যবসা-বানিজ্যের ওপরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিয়ে থাকি, ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.