Durga Puja in Bangladesh

Durga Puja in Bangladesh 2022: পশ্চিমবঙ্গ-সহ সমগ্র ভারত দুর্গাপুজো ও নবরাত্রির আনন্দে মেতে উঠে। শারদীয়ার আনন্দে মাততে প্রস্তুত হচ্ছে বাঙালি। তবে শুধু এপার বাংলা নয়, ওপার বাংলার মানুষও আনন্দে মাতবেন। এই বাংলার মতোই বাংলাদেশেও দুর্গাপুজোর পাঁচদিন ধরে উৎসবের আমেজ থাকে। রাজধানী ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক ঐতিহ্যশালী দুর্গাপুজো হয়।

দুর্গাপূজা ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল সহ ভারতীয় উপমহাদেশ ও বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রে এই উৎসব পালিত হয়। তবে দুর্গাপূজা বাঙালীর প্রধান উৎসব হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বাংলাদেশেও বিশেষ জাঁকজমকের সঙ্গে দুর্গাপূজা পালিত হয়।আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন পর্যন্ত শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।

Durga puja 2022: এবারে দেবীর কীসে আগমন ও গমন? এবং পুজোর সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট জানেন কি? জানুন

ষষ্ঠী থেকে দশমী, শারদীয়া দুর্গোৎসবের এই পাঁচটি দিনে ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে আপামর বাঙালি সকলেই মেতে উঠেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে হিমালয়ের কন্যা পার্বতী বছরে একবার বাবা-মায়ের কাছে আসেন। তাঁর সঙ্গে চার পুত্র কন্যা লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে নিয়ে আসেন। দেবী দুর্গা এই সময় যেন বাঙালির ঘরের মেয়ে হয়ে ওঠেন। দেবী দুর্গাকে স্বাগত জানাতে সকলেই উৎসবে মেতে উঠে। কিন্তু তাঁকে বিদায় দেওয়ার সময় সকলেই চোখের জল ফেলেন।

পশ্চিমবঙ্গের মত বাংলাদেশেও (Durga Puja in Bangladesh) যথেষ্ট জাঁকজমকভাবে দুর্গাপুজো হয়। তবে গত বছর ওপার বাংলার তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। গত বছরের দুর্গাষ্টমীর দিনের বিভীষিকা যেন আজও ভুলতে পারেনি বাংলাদেশ। পুজোর আবহে হঠাৎই অশান্তির আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। যার সূত্রপাত হয়েছিল কুমিল্লায়।গত বছর পুজোয় কুমিল্লায় পুজোমণ্ডপ, মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর ঘটনাকে ঘিরে গোটা বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে উঠেছিল।

Latest saree trends 2022: দেখেই মন বলে আহা মরি মরি! এবার পুজোর বাজার কাঁপাতে আসছে এই শাড়ি

একের পর এক জেলায় দুর্গামণ্ডপে ভাঙচুর, হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর লুঠপাট, হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামলাতে শেষপর্যন্ত হাসিনা সরকারকে বিজিবি মোতায়েন করতে হয়েছে। এবছরও বাংলাদেশ জুড়ে পুজোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে।দোরগোড়ায় পুজো এসে গেছে। তাই গত বছরের কুমিল্লার ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেজন্য এবার অতিরিক্ত তৎপর হাসিনা প্রশাসন।

এবার আগে থেকেই সতর্ক বাংলাদেশ সরকার। হাসিনা সরকার জানিয়ে দিয়েছে এবার প্রতিটি পুজো মণ্ডপে CCTV ক্যামেরা রাখা বাধ্যতামূলক। কারন CCTV ক্যামেরার নিরাপত্তা থাকলে কুমিল্লার মতো ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুজো মন্ডপগুলিতে যাতে কোনও অশান্তির ঘটনা না ঘটে সেজন্যও একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ভারত সফরে এসেছিলেন। তার আগেই হাসিনা জানিয়েছিলেন তাঁর মতই দেশে হিন্দুদেরও সমান অধিকার আছে। জন্মাষ্টমীর দিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে এই বার্তা দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার মতে পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় অনেক বেশি দুর্গাপুজার মণ্ডপ হয় ঢাকা শহরে ৷ এবার যাতে পুজোকে ঘিরে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আগে থেকেই হাসিনা সরকার তৎপর হয়েছে।

Jeans in fashion for girls (Durga Pujo 2022): এবার পুজোয় বাজার কাঁপাতে এই ৫ জিন্স আসছে! আপনার পছন্দের তালিকায় রয়েছে কি?

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন এই বছর প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা রাখা বাধ্যতামূলক৷তার সঙ্গে মণ্ডপেই পুলিশ স্বেচ্ছাসেবক এবং ভ্রাম্যমাণ আলাদত থাকবে। রবিবার ঢাকায় সচিবালয়ে দুর্গাপুজো উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

তিনি জানান আগামী ১ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে দুর্গাপুজো উদযাপিত হবে। গত বছরের চেয়ে এবার এক হাজারের বেশি মণ্ডপে পুজো উদযাপিত হবে। এবছর প্রতিবেশী দেশটিতে ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে দুর্গা পুজো হচ্ছে। পুজো ঘিরে গুজব ঠেকাতে ব্যবস্থা নিতেও তৎপর প্রশাসন। গুজবের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে কোনো সমস্যা হলে ৯৯৯-এ কল করা যাবে

পাশাপাশি আসাদুজ্জামান খান বলেন আজান ও নামাজের সময় শব্দের ব্যবহার সহনীয় থাকবে৷অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দুর্গাপুজোর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সারা দেশের মণ্ডপগুলোতে ২৪ ঘণ্টা প্যারা মিলিটারি সদস্যদের রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গত বছরের সন্ত্রাসের কথা মাথায় রেখেই বাংলাদেশের পুজোর আয়োজকরাও এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

গত শুক্রবার (৯ সেপ্টম্বর, ২০২২) সকাল ১০টায় (বাংলাদেশের সময় অনুসারে) ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বাংলাদেশ পুজো (Durga Puja in Bangladesh) উদযাপন পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে বাংলাদেশের ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৬২টি জেলা থেকেই প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সেই বৈঠকে মোট ২১ দফার একটি নির্দেশিকা প্রস্তাব আকারে পেশ করা হয় এবং গৃহীত হয়।

যার মোদ্দা কথা হল পুজোর সময় সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে সব রকমের সহযোগিতা করা হবে। যাতে গত বছরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বাংলাদেশের মানুষও জোরকদমে পুজোর তোরজোর শুরু করে দিয়েছে। এপার বাংলা অার ওপার বাংলার মাঝে শুধু সীমানার কাঁটাতার। আর তার দুই পাশেই আগমনীর বার্তা নিয়ে প্রকৃতি কার্যত একই রূপে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে শুরু করে দিয়েছে।

এইরকম আরও নানান গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

👍 Google News

👍 টেলিগ্রাম চ্যানেলে

By Probir Biswas

আমি প্রবীর বিশ্বাস Webscte.in এ সকল প্রকারের স্কলারশিপ সহ বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য, সাথে টেক নিউজ, বিনোদন, ব্যবসা-বানিজ্যের ওপরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিয়ে থাকি, ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.